জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ইরানকে ঘিরে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে নবনির্বাচিত ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী, তবে তার জন্য তেহরানকে চারটি কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে।
ফ্লোরিডায় ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিলের এক সম্মেলনে তিনি এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। উইটকফ স্পষ্ট করেন যে, ইরান যদি আন্তর্জাতিক কাঠামোয় ফিরতে চায়, তবে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ২. ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উন্নয়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।
৩. ইউরেনিয়াম মজুত: বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা প্রায় দুই হাজার কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ৪. প্রক্সি নেটওয়ার্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও সমর্থন বন্ধ করতে হবে।উইটকফ আরও উল্লেখ করেন, ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর। আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি এবং পানি ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতির কারণে তেহরান শেষ পর্যন্ত সমঝোতার টেবিলে আসতে বাধ্য হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি ইরানি জনগণের সাহসকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতাকামী ইরানিদের পাশে আছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিলেও, সম্প্রতি তেহরানের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ড বন্ধের ‘ইতিবাচক বার্তা’ পাওয়ার পর সুর নরম করেছেন। তবে চাপ বজায় রাখতে এরই মধ্যে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে কূটনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমেই ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন