রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইতালিতে জরুরি অবস্থা জারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:২৯ এএম

ইতালিতে জরুরি অবস্থা জারি

ঘূর্ণিঝড় হ্যারির প্রভাবে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্যালাব্রিয়া, সিসিলি ও সার্ডিনিয়া অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সিসিলির নিশেমি শহরে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে যার ফলে অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি ইতালির নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রী নেলো মুসুমেচি আনুষ্ঠানিকভাবে এই জরুরি অবস্থার কথা জানান। 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে ভূমিধসটি শহরের মূল কেন্দ্রের দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হওয়ায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ১০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে বর্তমানে ১৫০ মিটার করা হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রাই নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে এই ভূমিধসের রেখাটি বর্তমানে প্রায় চার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়েছে যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। 

দেশটির নাগরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ফ্যাবিও সিসিলিয়ানো সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন যে ভূমিধস এখনো থামেনি এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছালে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। নিশেমি শহরে কয়েকদিনের ব্যবধানে দুটি বড় ধরনের ভূমিধস হয়েছে যেখানে মাটির গভীরতা কোথাও কোথাও ছয় মিটার পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। ইতালির সংবাদসংস্থা আনসা জানিয়েছে যে এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার জাতীয় জরুরি তহবিল থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে। 

এই বিশাল অঙ্কের অর্থ মূলত ধ্বংসাবশেষ অপসারণ, জরুরি বিদ্যুৎ ও পানি সেবা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক খাদ্য ও আশ্রয়ের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। অন্যদিকে উত্তর ইতালির আরেনজানো ও জেনোয়ার মধ্যবর্তী উপকূলীয় সড়কেও ভূমিধসের কারণে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সার্ডিনিয়া দ্বীপপুঞ্জে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছে আবহাওয়া দপ্তর যা উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ইতালির সরকার জানিয়েছে যে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো মেরামতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।