সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

১৪ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

১৪ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট

দীর্ঘ ১৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে পুনরায় সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ১৪৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা থেকে সরাসরি করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ২০১০ সালের পর আকাশপথের এই পুনর্মিলনকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ থাকায় এতদিন যাত্রীদের তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যাতায়াত করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এই ফ্লাইটের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটল।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইটটি করাচিতে পৌঁছালে সেটিকে ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াটার স্যালুট’ দিয়ে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কেক কেটে এই পুনঃযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিন্ধুর গভর্নর কামরান তেসোরি এবং করাচিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার সাকিব সাদাকাত। 

অতিথিরা জানান, এই উদ্যোগ কেবল এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন নয়, বরং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের হিমশীতল ও স্থবির সম্পর্ক কাটানোর একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। প্রথম ফ্লাইটের যাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা ও করাচির মধ্যে সপ্তাহে আপাতত দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। 

যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর টিকিট ইতিমধ্যে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরাসরি এই যোগাযোগের ফলে পারিবারিক যাতায়াত ও পর্যটনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসায়ীরা এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে লাভবান হবেন।

অনুষ্ঠানে সিন্ধুর গভর্নর কামরান তেসোরি তার বক্তব্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই বিমান পরিষেবা চালুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনেক ষড়যন্ত্র ও নেতিবাচক প্রচারণার অবসান হলো। এর মাধ্যমে বাণিজ্য ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারাও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরাসরি যোগাযোগের এই সুফল দুই দেশের সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়িক সমাজ অচিরেই ভোগ করতে শুরু করবেন। এই রুটের সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবি ও সিভিল এভিয়েশনের।