জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে এক ভয়াবহ ও নতুন সামরিক কৌশল হাতে নিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর মূল লক্ষ্য হবে প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে হত্যা বা গুরুতরভাবে আহত করা। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার সেনা সমাবেশের সক্ষমতাকে ভেঙে দেওয়া, যাতে মস্কো নতুন করে যত সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে পারে, তার চেয়েও বেশি ক্ষয়ক্ষতি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইউক্রেনের এই নতুন লক্ষ্যমাত্রার তথ্য জানানো হয়েছে। জেলেনস্কি মনে করেন, ৫০ হাজার মাসিক ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করা গেলে রুশ সামরিক বাহিনী আর কোনোভাবেই তাদের শক্তি পুষিয়ে নিতে পারবে না।
ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে রুশ সেনাদের হতাহতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলেনস্কি জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, কেবল ডিসেম্বর মাসেই ৩৩ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিশ্চিতভাবে নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্কট্যাংক সিএসআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখের কাছাকাছি, যার মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে এক ধরণের অচলাবস্থা বিরাজ করছে, তবুও ইউক্রেন মনে করছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা এই সংখ্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে।জেলেনস্কির এই নতুন কৌশলের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে ড্রোন প্রযুক্তি। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ব্যবহার করে আঘাত হানছে ইউক্রেন।
গত এক বছরেই ৮ লাখ ১৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রতিটি হামলার ভিডিও নথিভুক্ত করা হচ্ছে। ড্রোন অপারেটরদের উৎসাহিত করতে ইউক্রেন সরকার এখন পয়েন্টভিত্তিক ও আর্থিক পুরস্কার ব্যবস্থা চালু করেছে। এর আগে একটি রুশ যুদ্ধট্যাংক দখল বা ধ্বংসের জন্য ২৩ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়া ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ড্রোন উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সমন্বয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে কিয়েভ।
অন্যদিকে, রাশিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউক্রেনের বেসামরিক শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। গত শনিবার প্রায় ৪০০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের ১২ লাখ বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিয়েভের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখনও অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন। জ্বালানি সংকটের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই জেলেনস্কি তার সামরিক কৌশলে অটল থেকে মস্কোকে বড় ধরণের ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সম্মুখ সমরে বিশাল ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের চেয়ে এখন রুশ সেনাশক্তিকে ভেতর থেকে ক্ষয় করার এই ‘কিলার স্ট্র্যাটেজি’ যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন