ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ভারতের মেঘালয় রাজ্যে আবারও ফিরে এলো কয়লাখনি ট্র্যাজেডির কালো ছায়া। রাজ্যের ইস্ট জৈন্তিয়া পাহাড়ি জেলার একটি অবৈধ কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুর্গম থাঙ্কসু এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণে আরও অন্তত আটজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং খনির গভীরে আরও বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত ডিনামাইট থেকেই এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের সূত্রপাত।নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি অবৈধ ‘র্যাট-হোল’ বা ইঁদুরের গর্তের মতো সরু খনি ছিল, যেখানে শ্রমিকরা চরম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।
বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় এবং কোনো মানচিত্র না থাকায় উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে অগ্নিদগ্ধ হয়ে অথবা সুড়ঙ্গের ভেতর শ্বাসরোধে।
এই ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।উল্লেখ্য, পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ২০১৪ সাল থেকেই মেঘালয়ে ‘র্যাট-হোল’ পদ্ধতিতে কয়লা খনন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ।
তবে প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র এখনো দুর্গম পাহাড়ে এসব মরণফাঁদ চালু রেখেছে। ২০১৮ সালেও একই ধরনের খনি দুর্ঘটনায় ১৫ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছিল। একের পর এক এমন ঘটনার পরও অবৈধ খনন বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন