মার্চ ১, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির শাসনব্যবস্থায় এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই চরম সংকটের মুহূর্তে পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও কূটনীতিক আলী লারিঞ্জানি। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি দেশে একটি অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।
গত এক বছরে লারিঞ্জানি নিজেকে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে পারমাণবিক আলোচনা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেওয়া লারিঞ্জানি ইরানের একটি প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবার থেকে এসেছেন। তার ভাইয়েরাও দেশটির বিচার বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদে আসীন ছিলেন। লারিঞ্জানি দীর্ঘ ১২ বছর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার আমলেই ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তির সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
যদিও ২০২১ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল তবে বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ পাওয়ার ব্রোকার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। গত আগস্টে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত কৌশলী হিসেবে কাজ করছিলেন।পারমাণবিক ইস্যুতে লারিঞ্জানিকে কিছুটা বাস্তববাদী মনে করা হলেও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে তার অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইরানে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী ওই আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল এবং লারিঞ্জানি ছিলেন বলপ্রয়োগের অন্যতম প্রবক্তা। যদিও তিনি অর্থনৈতিক কারণে হওয়া আন্দোলনকে জনগণের প্রতিবাদ বলেছিলেন তবে সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের শহুরে আধা সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। একই সাথে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা তদারকি করছিলেন যা তার দ্বিমুখী কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দেয়।
খামেনির মৃত্যুর পর দেওয়া ভাষণে লারিঞ্জানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যদি এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে তবে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। উল্লেখ্য যে খামেনির সাথে বিমান হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুর রহিম মুসাভিও নিহত হয়েছেন।
এমন এক পরিস্থিতিতে লারিঞ্জানি একদিকে যেমন রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে মস্কো সফর করছেন অন্যদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আলোচনার পথও খোলা রাখছেন। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তিনি আলোচনার টেবিলে নমনীয়তা দেখালেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি আপসহীন। বর্তমানে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে তার ভূমিকা এখন সব মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন