বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মেলানিয়া ট্রাম্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মেলানিয়া ট্রাম্প

মেলানিয়া ট্রাম্পের নেতৃত্ব

জাতিসংঘের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আজ সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে এই প্রথম কেউ বিশ্ব সংস্থার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের অধিবেশনে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। 

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাধারণত জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কিংবা সরকারের অত্যন্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এসব সভায় সভাপতিত্ব করে থাকলেও এবার মেলানিয়া ট্রাম্পকে সেই ভূমিকায় দেখা যাবে।

চলতি মার্চ মাসের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের ঘূর্ণমান সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই ১৫ সদস্যের এই পরিষদের অধিবেশনে নেতৃত্ব দেবেন মেলানিয়া। এমন এক সময় তিনি এই দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন যখন জাতিসংঘ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এক মুখপাত্র এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন ফার্স্ট লেডির এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা পরিষদ এবং আলোচিত বিষয়গুলোর প্রতি ওয়াশিংটন যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে মূলত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং শিক্ষার প্রসারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

তবে মেলানিয়া ট্রাম্পের এই সভাপতিত্বের পেছনে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছেন বিশ্লেষকরা। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংস্থাটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বিলিয়ন ডলার চাঁদা বকেয়া রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই জাতিসংঘকে একটি অকার্যকর সংস্থা হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। এমনকি তার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জাতিসংঘের একাধিক অঙ্গ সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। 

বৈশ্বিক কূটনীতির চেয়ে নিজস্ব বিকল্প উদ্যোগকে প্রাধান্য দেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থানের মধ্যে মেলানিয়া ট্রাম্পের সভাপতিত্ব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষ কোনো বার্তা দিতে চাইছে কি না, তা নিয়েও চলছে নানা বিশ্লেষণ।