রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬,

সৌদির বড় তেল শোধনাগারে ইরানের ভয়াবহ ড্রোন হামলা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

সৌদির বড় তেল শোধনাগারে ইরানের ভয়াবহ ড্রোন হামলা

আরামকো শোধনাগারে হামলা

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার রাস তানুরায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। শাহেদ-১৩৬ মডেলের ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। হামলার পরপরই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাস তানুরা রিফাইনারির যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা মিডল ইস্ট মনিটর এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, হামলার কারণে স্থাপনাটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পরপরই স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। 

তবে আরামকোর বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার কৌশল ও লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল।সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাস তানুরা রিফাইনারি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত তেল শোধন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই স্থাপনাটিতে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করার সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া এর ঠিক পাশেই রয়েছে একটি বিশাল রপ্তানি টার্মিনাল, যেখান থেকে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তেল চাহিদার বড় একটি অংশ এই শোধনাগারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী হুথির সামরিক শাখা এই হামলার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে তারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দর এবং বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান আরামকোর স্থাপনায় নতুন করে এই হামলা চালিয়েছে। হুথিদের এই সামরিক তৎপরতা এবং এর পেছনে ইরানের সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তার অভিযোগ দুই অঞ্চলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস তানুরার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ড্রোনগুলো আঘাত হানতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি যখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের হামলার ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।