রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ব্যয় ১০০ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৯, ২০২৬, ১০:১২ এএম

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ব্যয় ১০০ কোটি ডলার

যুদ্ধব্যয়ের খতিয়ান

ইরানের সঙ্গে চলমান সরাসরি যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিদিন মার্কিন করদাতাদের প্রায় ১০০ কোটি ডলার বা এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। যুদ্ধের মাত্র ৯ দিন অতিবাহিত হওয়ার মধ্যেই ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৭৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ ২১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক এক বিলিয়ন ডলার খরচের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাত্র আট সপ্তাহেই ৫৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় হবে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হচ্ছে যে এই সংঘাত আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ালে তা মার্কিন অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম চারদিনেই ইরানের পাল্টা হামলায় প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রথম বোমাটি নিক্ষেপ করার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে নৌযান ও বিমান পুনঃস্থাপনে প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে গিয়েছিল। এই বিপুল পরিমাণ যুদ্ধব্যয় এমন এক সময়ে করা হচ্ছে যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমানোর নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে লাখ লাখ আমেরিকান নাগরিকের খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও ফেডারেল সুবিধাগুলো হ্রাস পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। 

নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সাবেক সদস্যদের মতে, আমেরিকান পরিবারগুলো যখন নিত্যপণ্যের দাম ও বাড়ি ভাড়া মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন একটি অযৌক্তিক যুদ্ধে শতকোটি ডলার অপচয় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বিশেষজ্ঞ পরিষদ। নতুন নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম আসার জোরালো গুঞ্জন থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে মার্কিন অনুমোদন ছাড়া তেহরানের কোনো নেতা বেশিদিন ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না। 

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সতর্ক করেছে যে খামেনির স্থলাভিষিক্ত যে কাউকেই তারা লক্ষ্যবস্তু করবে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সচিব আলী লারিজানি এই যুদ্ধকে ট্রাম্পের একটি কৌশলগত ভুল হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের তৈরি করা ভুল হিসাবের কাদাজলে আটকে পড়েছে। ইরান দাবি করেছে যে তারা বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ আরও অন্তত ৬ মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে। ইসরায়েলের তেল আবিব ও জর্ডানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। অন্যদিকে সৌদি আরবের আল-খারজ শহরের আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। 

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩৯৪ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৮৩ জনই শিশু। যুদ্ধের কারণে লেবানন থেকে ইতোমধ্যে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে থাকায় ইতালি সরকার তাদের ২০ হাজার নাগরিককে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে নিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি সংঘাত পুরো বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।