মার্চ ১২, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার রাতের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। গত চার বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের দামের এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৩২টি দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পরেও এই মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বৈশ্বিক তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড বুধবার রাতে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং পরে কিছুটা কমে ৯৮ দশমিক ২ ডলারে থিতু হয়।
এটি এক রাতেই প্রায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম বেড়ে ৯৪ দশমিক ৮ ডলারে উঠে যায়। মূলত হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়াই এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু সংঘাতের জেরে এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের বড় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিকল্প পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে।এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য দেশগুলো বাজার স্থিতিশীল করতে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা ইতিহাসের বৃহত্তম জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে ইরানের সামরিক কমান্ড নতুন এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছে যে বিশ্বকে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা সত্ত্বেও তারা জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে যা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন