রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১২, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি এক টেলিভিশন ভাষণে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। শত্রুদের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতির প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। 

মোজতবা আলী খামেনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষায় কৌশলগত প্রয়োজনে এই পদক্ষেপ গ্রহণে তেহরান দ্বিধা করবে না।

নতুন এই নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে ইরানের বর্তমান প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশল। তিনি বলেন যে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অবস্থান নিয়েছে, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হরমুজ প্রণালীকে একটি কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

হরমুজ প্রণালী মূলত পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে, যা বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত।আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। প্রতিদিন বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের একটি বিশাল অংশ এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে পাড়ি দেয়। 

এটি বন্ধ থাকলে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো সরাসরি জ্বালানি সংকটের মুখে পড়বে। মোজতবা খামেনির এই চরম হুঁশিয়ারি মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনি তার বক্তব্যে একদিকে যেমন জাতীয়তাবাদের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, অন্যদিকে সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতার জানান দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইরান কি আসলেই এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার ঝুঁকি নেবে নাকি এটি নিছক একটি হুঁশিয়ারি হিসেবে থেকে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির ওপর এখন কড়া নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।