রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান যুদ্ধে মোতায়েন বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৩, ২০২৬, ১০:০৩ এএম

ইরান যুদ্ধে মোতায়েন বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে আগুন

মার্কিন রণতরী ফোর্ড

ইরান যুদ্ধে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে লোহিত সাগরে অবস্থানরত এই যুদ্ধজাহাজটিতে কোনো শত্রু পক্ষের হামলার কারণে আগুন লাগেনি বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। 

অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক সামরিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রণতরীটির লন্ড্রি কক্ষে এই আগুনের সূত্রপাত হয়, যেখানে মূলত দায়িত্বরত সেনাদের পোশাক ধোয়া হচ্ছিল। 

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে নৌবাহিনীর দুজন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই রণতরীটি লোহিত সাগরে মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন মার্কিন সেনা সদস্য অবস্থান করছেন। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মধ্যেই অন্য একটি মার্কিন রণতরী নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ওমান সাগরে ইরানের সামুদ্রিক সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত রণতরীটি আঞ্চলিক জলসীমা ছেড়ে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর বৃহত্তম রণতরীতে অগ্নিকাণ্ড এবং অন্য একটি রণতরীতে ইরানের হামলার দাবি নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র অগ্নিকাণ্ডকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে অভিহিত করছে, অন্যদিকে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিয়ে সফল অভিযানের দাবি করছে। লোহিত ও ওমান সাগরে দুই বৃহৎ শক্তির এমন মুখোমুখি অবস্থান এবং ধারাবাহিকভাবে রণতরীগুলোর ক্ষয়ক্ষতির খবর বিশ্ব রাজনীতিতে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন সামরিক দপ্তর বর্তমানে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং লোহিত সাগরে মোতায়েন করা তাদের সম্পদগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে।