সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই চীন-তাইওয়ান ঘিরে নতুন উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই চীন-তাইওয়ান ঘিরে নতুন উত্তেজনা

তাইওয়ানে চীনের মহড়া

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই এবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে রণদামামা বাজতে শুরু করেছে। চীন ও তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। দুই সপ্তাহের বেশি সময় এক রহস্যময় অস্বাভাবিক বিরতির পর আবারও তাইওয়ানের চারপাশ ঘিরে বড় আকারের সামরিক মহড়া শুরু করেছে বেইজিং। 

রোববার (১৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা তাদের আকাশসীমার আশপাশে অন্তত ২৬টি চীনা যুদ্ধবিমান শনাক্ত করেছে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের এই তৎপরতা গত ২৫ ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষে ৩০টি চীনা বিমান মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলে চীনের কোনো সামরিক বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি। 

বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই দীর্ঘ নীরবতার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও, আকস্মিকভাবে আবারও বিপুল পরিমাণ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করায় এই অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সাম্প্রতিক কিছু জোরালো বক্তব্য। সম্প্রতি তিনি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং দ্বীপটির গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারের কথা বলেছিলেন। বেইজিংয়ের ‘তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর’ শনিবার রাতে এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। 

দপ্তরের এক মুখপাত্র সরাসরি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে যেন ‘ভুল হিসাব’ না করেন। চীনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাইওয়ানের বর্তমান নেতৃত্ব যদি কোনো ধরনের ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ নেয়, তবে তারা নিজেরাই নিজেদের কবর খুঁড়বে।

গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে চীন দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলের হুমকিও দিয়ে রেখেছে। বর্তমানে বিশ্ব যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিবদ্ধ, ঠিক তখনই চীনের এই মহড়া ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলছে। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব এবং চীনের আগ্রাসী অবস্থানের এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত এশিয়ায় নতুন কোনো যুদ্ধের রূপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।