সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে সৌদি-কুয়েত-ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২৫, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে সৌদি-কুয়েত-ইসরায়েল

কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠেছে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের একাধিক দেশ। একদিকে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েক ডজন ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে। 

অন্যদিকে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েক ডজন ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে। যদিও এই হামলার উৎস বা সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো গোপন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েতের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। 

কুয়েত ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা অন্তত পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে একটি ড্রোন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত হানলে সেখানে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। উল্লেখ্য যে, এই নিয়ে তৃতীয়বার ওই বিমানবন্দরটি আক্রমণের শিকার হলো। গত রাতে কুয়েতে অন্তত ১২ থেকে ১৩ বার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজেছে, যা দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড।সংঘাতের আঁচ লেগেছে জর্ডান ও ইসরায়েলেও। 

জর্ডানের রাজধানী আম্মানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় কিরিয়াত শমোনা এলাকায় লেবানন থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি নির্মাণাধীন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ইরান ও হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উত্তর ইসরায়েলে একজন নিহত হওয়ার পর থেকেই পুরো দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোর আকাশসীমা এখন কার্যত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলের সংঘাত যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে প্রতিটি দেশই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।