রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফিলিপাইনে তীব্র জ্বালানি সংকট পেট্রোল পাম্প বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

ফিলিপাইনে তীব্র জ্বালানি সংকট পেট্রোল পাম্প বন্ধ

ফিলিপাইনে জ্বালানি সংকট

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ফিলিপাইনে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬৫টি পেট্রোল পাম্প তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। সোমবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রভাবে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশ জানিয়েছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে জ্বালানি স্টেশনগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ফিলিপাইনে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। 

এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং দেশটির পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছে। 

একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলার ৩০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের খবরকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি ঝুঁকির মুখে থাকায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের সম্মুখীন। 

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাল্টা প্রতিশোধের হুমকিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ নিউম্যান সতর্ক করেছেন যে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অচিরেই ১২০ ডলার বা তার বেশি হতে পারে। জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্য কেবল ফিলিপাইন নয় বরং সারা বিশ্বের ভোক্তাদের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ তৈরি করছে।