এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
ইরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনার পারদ ততই বাড়ছে। এরই মধ্যে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বেসামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা শুরু হয়েছে। খারিগ দ্বীপেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতার মাঝেই নতুন করে সামনে এসেছে ‘পারমাণবিক বোমা’ ব্যবহারের আশঙ্কা।
তবে এই গুঞ্জন নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস।বিশ্বজুড়ে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাবে?
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের পোস্ট থেকে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
তবে মার্কিন প্রশাসন তথা হোয়াইট হাউস এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউস অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই গুঞ্জনের বিরোধিতা করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানে পারমাণবিক হামলার কোনো পরিকল্পনা বা সম্ভাবনা নেই। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যেও এমন কোনো আভাস ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই দাবি উসকে দেওয়া ব্যক্তিদের ‘নির্বোধ’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া কঠোর আলটিমেটাম কার্যকর করতে মার্কিন বাহিনীর হাতে এমন কিছু আধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যা এখনো ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউসের দাবি, ভ্যান্সের এই বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পারমাণবিক হামলার ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে এখনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রেখেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার হুমকির পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তার দেওয়া আলটিমেটামের সময় প্রায় শেষ। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আজ রাতেই একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা আর কোনোদিন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। ট্রাম্পের এমন কঠোর বার্তার পরপরই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে দরকষাকষি ও আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের আলটিমেটাম ইরানকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পারমাণবিক হামলার বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও, ‘অব্যবহৃত শক্তিশালী অস্ত্র’ ব্যবহারের হুমকিটি বিশ্ব নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আজ রাতের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক লড়াই এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন