বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লোহিত সাগরে সামরিক অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

লোহিত সাগরে সামরিক অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

টহল দিচ্ছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার লোহিত সাগরে সামরিক অবস্থান নেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে তারা গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্র পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বুধবার এক বিবৃতিতে এই অবস্থানের কথা জানান। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও এখন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে আলী আবদুল্লাহি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত অবরোধ বজায় রেখে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে। 

তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের এই আচরণ মূলত বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি নামান্তর। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরের কোনো অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো আমদানি বা রপ্তানি কার্যক্রম চলতে দেবে না বলে তিনি হুমকি দেন। 

তেহরানের এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে বাণিজ্যিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার তেহরানে জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি জানান, ইরানকে বলপ্রয়োগ বা আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের জনগণ বিদেশি চাপ কখনো মেনে নেবে না। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তেহরান কখনো যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা চায় না, বরং সব সময়ই গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার পক্ষে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বেসামরিক এলাকা, স্কুল ও হাসপাতালে হামলা চালানোর পেছনে কী ধরনের মানবিক যুক্তি থাকতে পারে।বর্তমানে লোহিত সাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী তাদের অবরোধ কার্যক্রম জোরদার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে যাতায়াতকারী প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 

সেন্টকমের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশই সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই অবরোধ দেশটির ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে। মার্কিন এই কঠোর অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই এখন লোহিত সাগরে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের পথে হাঁটছে তেহরান। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।