রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত করার ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত করার ঘোষণা ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি গোপন আলোচনার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত’ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বেইজিং এখন থেকে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। গতকাল বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। 

তিনি আরও জানান যে, আসন্ন একটি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন এবং তাঁরা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, চীন ইরানকে আর কোনো অস্ত্র না পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন যে হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি শুধু চীনের জন্য নয় বরং সারা বিশ্বের বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করছে যা যেকোনো লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। 

তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে হরমুজ প্রণালি এখনই জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হচ্ছে কি না কিংবা এটি ইরানের সঙ্গে কোনো শান্তি আলোচনার অংশ কি না সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল যুদ্ধবিরতি নয় বরং সরাসরি যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা তাঁর নেই কারণ তিনি মনে করেন এই সংঘাত এখন প্রায় শেষের পথে।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্ব এক চমৎকার পরিস্থিতি দেখতে পাবে। তাঁর মতে সামরিকভাবে ইরানকে পরাজিত করার পর এখন একটি বড় ধরনের চুক্তি হওয়াই সেরা বিকল্প। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে একটি স্থায়ী সমাধান হলে ইরানকে নতুন করে পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হবে যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ সুগম করবে।

এই ঘোষণার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন যেখানে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার অনুরোধ জানানো হয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী শি জিনপিং চিঠির জবাবে নিশ্চিত করেছেন যে চীন বর্তমানে ইরানকে কোনো অস্ত্র দিচ্ছে না। যদিও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে চীন তেহরানকে সমরাস্ত্র দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে সেই দেশের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে চীনের এই নমনীয় অবস্থান ট্রাম্পের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ এখনো যোগাযোগ রক্ষা করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন যে ইসলামাবাদে আলোচনার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করবে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তেহরানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের এই প্রতিনিধিদল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে হুমকির খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন নৌ-অবরোধের জবাবে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক কমান্ড সেন্টার জানিয়েছে যে ইরানি বন্দরে অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগর দিয়ে কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেবে না। লোহিত সাগরের লজিস্টিক রুটগুলো বন্ধ করে দেওয়ার এই হুমকি ট্রাম্পের ‘উন্মুক্ত হরমুজ’ ঘোষণার ঠিক বিপরীত এক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এখন কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরে রয়েছেন। গতকাল বুধবার তিনি জেদ্দার উদ্দেশে পাকিস্তান ত্যাগ করেন। সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর তুরস্ক যাওয়ার কথা রয়েছে যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। পাকিস্তান মনে করছে এই সফরের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্থাপনের পথ প্রশস্ত হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের ওপর কারণ ট্রাম্পের দাবি সত্যি হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।