রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তুরস্কে স্কুলে বন্দুক হামলায় নি‍‍`হত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১১:২৪ এএম

তুরস্কে স্কুলে বন্দুক হামলায় নি‍‍`হত ৯

তুরস্কের স্কুলে হামলা

তুরস্কের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফচি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, দক্ষিণ তুরস্কের কাহরামানমারাস প্রদেশের একটি বিদ্যালয়ে এই মর্মান্তিক হামলার ঘটনাটি ঘটে। 

নিহতদের মধ্যে আটজনই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।কাহরামানমারাসের গভর্নর মুকেরেম উনলুয়ের এই হামলার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন যে, হামলাকারী নিজেও ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির একজন ছাত্র। 

মাত্র ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর তার স্কুলব্যাগে করে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, অস্ত্রগুলো হামলাকারী ছাত্রের বাবার ছিল, যিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। 

ওই ছাত্রটি বিদ্যালয়ের দুটি পৃথক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিক্ষক ও সহপাঠীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। এ ঘটনায় হামলাকারী ছাত্রটিও নিহত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।উদ্বেগের বিষয় হলো, তুরস্কে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় বন্দুক হামলার ঘটনা। এর মাত্র একদিন আগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলেই অন্য একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবেক এক ছাত্রের গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১৬ জন আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় হামলাকারী ছাত্রটি পরে আত্মহত্যা করেছিল। পরপর এমন সহিংস ঘটনায় তুরস্কের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।

বর্তমানে কাহরামানমারাস প্রদেশের ওই বিদ্যালয়টি নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে রেখেছে এবং স্থানীয় হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফচি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এই ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের ভেতরে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাকে তুরস্কের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ স্কুল শুটিং হিসেবে অভিহিত করেছে।