শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বলপ্রয়োগের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

বলপ্রয়োগের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের বলপ্রয়োগের কাছে ইরানের জনগণ নতি স্বীকার করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইরানের মনোভাব ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের মনে একটি ‘গভীর ঐতিহাসিক অবিশ্বাস’ বিদ্যমান রয়েছে। 

তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান তখনই সম্ভব যখন উভয় পক্ষ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান নিজের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া ওই পোস্টে মাসউদ পেজেশকিয়ান লিখেছেন, মার্কিন সরকারের অতীত কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান সময়ের আচরণের প্রেক্ষাপটে ইরানের মনে যে গভীর ঐতিহাসিক অবিশ্বাস রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। 

বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আসা কিছু স্ববিরোধী ও নেতিবাচক অবস্থান এক তিক্ত বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর মতে, এসকল পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিনিরা মূলত ইরানের আত্মসমর্পণ চায়। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সম্মান ও স্বীকৃতির পরিবর্তে কেবল শক্তির দাপট দেখিয়ে ইরানকে কোনো সিদ্ধান্তে বাধ্য করা যাবে না।প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আজই ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরণের চুক্তি সই হতে পারে। 

ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের পথে রওনা হয়েছে। তবে এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও দেশ ছাড়েননি; তিনি ওয়াশিংটনেই অবস্থান করছেন।

এদিকে পাকিস্তানে আয়োজিত এই শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ইরান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা। তবে তিনি একই সাথে এটিও পরিষ্কার করেছেন যে, এ বিষয়ে তেহরান এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও আলোচনার পরিবেশ কতটা গঠনমূলক হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই ইরান পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ট্রাম্পের দ্রুত চুক্তির দাবি এবং পেজেশকিয়ানের শর্তযুক্ত অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার সম্ভাব্য এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও জল্পনা বেড়েই চলেছে।