এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ রেজা মোহসেনি এই মন্তব্য করেন।
তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের বর্তমান আচরণ এবং অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আলোচনার টেবিল কোনো ইতিবাচক সমাধান বয়ে আনার সম্ভাবনা নেই। তেহরানের এই অনড় অবস্থান ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ রেজা মোহসেনি অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই ইরানের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাবি করে থাকে এবং তাদের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে অভ্যন্তরীণ স্বার্থ উদ্ধারের গোপন উদ্দেশ্য কাজ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর চালানো বিভিন্ন আগ্রাসন এবং পূর্ববর্তী আলোচনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসভঙ্গের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এসকল তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই বর্তমানে পরবর্তী দফার আলোচনা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরিবেশ তৈরি না করে উল্টো চাপ প্রয়োগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, যা ইরানের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে কাতারের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তেহরান থেকে কোনো ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এই বৈঠকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা এখনও ইরানেই অবস্থান করছেন এবং পাকিস্তান সফরের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য এই আলোচনা যেন কোনোভাবেই সফল হতে না পারে, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে। এমতাবস্থায় যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠকে ইরানের অনুপস্থিতি পুরো প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এমন সময়ে এই মন্তব্য এল যখন ওয়াশিংটন দাবি করছিল যে ইরানের সাথে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে তারা। এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আলোচনার এই নতুন জানালাও চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন