রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জ্বালানি সংকটে ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করল লুফথানসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

জ্বালানি সংকটে ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করল লুফথানসা

রানওয়েতে দাঁড়িয়ে লুফথানসা

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের জেরে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জার্মানির জাতীয় বিমান সংস্থা লুফথানসা। জেট ফুয়েলের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে সংস্থাটি তাদের প্রায় ২০ হাজার স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত ক্রমবর্ধমান পরিচালনা ব্যয় সামাল দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

লুফথানসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জেট জ্বালানির দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় তারা বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছে। এই লোকসান কমাতে বিমান সংস্থাটি ইতিমধ্যে তাদের সিটি লাইন সেবা বন্ধ করার পাশাপাশি ২৭টি বিমানকে স্থায়ীভাবে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এই ফ্লাইট বাতিলের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০ হাজার টন জেট জ্বালানি সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সংস্থাটি বলছে, এই কর্তন তাদের মোট আসন সক্ষমতার মাত্র এক শতাংশের সমান, তবুও বৈশ্বিক পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় একে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি ইউরোপীয় রুটগুলোতেও বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস আনছে লুফথানসা। ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ থেকে যেসব রুট বর্তমানে অলাভজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে জুরিখ, ব্রাসেলস ও ভিয়েনার মতো তুলনামূলক স্থিতিশীল গন্তব্যগুলো থেকে বিদ্যমান রুটগুলোর সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে জ্বালানি ও পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ যাত্রীদের পকেটে। ইতিমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন রুটে বিমান টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে, যা সাধারণ পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বর্তমানে সর্বোচ্চ মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বের অধিকাংশ বিমান সংস্থাই বর্তমানে চড়া ব্যয়ের চাপে হিমশিম খাচ্ছে। লুফথানসার এই ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত সেই বৈশ্বিক সংকটেরই এক প্রতিচ্ছবি যা আন্তর্জাতিক আকাশপথ পরিবহন ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা ফুটিয়ে তুলছে।