শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফের পদত্যাগ

পদত্যাগ করলেন গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান আলোচনার মোড় হঠাৎ করেই ঘুরে গেছে। আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্যটি গুরুত্বের সাথে জানানো হয়েছে। মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলে গভীর মতবিরোধের জের ধরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন গালিবাফ। তবে তেহরানের কট্টরপন্থী মহলে তার এই উদ্যোগ ভালো চোখে দেখা হয়নি। 

এই কারণেই তাকে তীব্র ভর্ত্সনার শিকার হতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নেন। বর্তমানে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কট্টরপন্থী নেতা সাঈদ জালিলির নাম বেশ জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে। একই সাথে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিজেও এই আলোচনার সরাসরি নেতৃত্ব নিতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

একদিকে যখন তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা চলছে, ঠিক সেই সময়েই ইসলামাবাদের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ শুক্রবার রাতেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রগুলো এই বৈঠক থেকে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছে।

এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সাথে টেলিফোনে বিস্তারিত আলাপ করেছেন। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই নেতা বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি, গাজা বা লেবাননে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের সাথে আমেরিকার সংলাপের প্রেক্ষাপট নিয়ে নিবিড় মতবিনিময় করেছেন। এই সময় ইসহাক দার দীর্ঘমেয়াদি সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের গঠনমূলক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাথেও আলাদাভাবে ফোনে কথা বলেছেন। যদিও এই কথোপকথনের বিষয়টি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবুও এই তৎপরতা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ইসলামাবাদে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে অন্তত নয়টি মার্কিন বিমান যোগাযোগ সরঞ্জাম ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।