রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মহাকাশে পাকিস্তানের নতুন মাইলফলক ইমেজিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

মহাকাশে পাকিস্তানের নতুন মাইলফলক ইমেজিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

মহাকাশে পাকিস্তানি স্যাটেলাইট

মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে পাকিস্তান। চীনের সহায়তায় দেশটি সফলভাবে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইমেজিং স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের তাইউয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে এই রিমোট সেন্সিং উপগ্রহটি মহাকাশে পাঠানো হয়। শনিবার রাতে এই সফল মিশন সম্পন্ন হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পিআরএসসি-ইও৩ (PRSC-EO3) নামের এই অত্যাধুনিক উপগ্রহটি মহাকাশে নিয়ে গেছে চীনের শক্তিশালী লং মার্চ-৬ রকেট। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ত্যাগ করে এবং কিছুক্ষণ পরেই নির্ধারিত কক্ষপথে সফলভাবে প্রবেশ করে। উল্লেখ্য যে, এটি চীনের বিখ্যাত লং মার্চ রকেট সিরিজের ৬৪০তম মিশন হিসেবে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে। পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো জানিয়েছে, এই উপগ্রহটি সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল স্যাটেলাইট, যা দেশটির মহাকাশ সক্ষমতাকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এই স্যাটেলাইটটি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হবে। এতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক বহু-কোণভিত্তিক চিত্রগ্রহণ প্রযুক্তি এবং উন্নত শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থার কারণে এটি অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, এই অর্জন পাকিস্তানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, নতুন এই স্যাটেলাইটটি নগর পরিকল্পনা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নীতিনির্ধারকদের বড় ধরনের সহায়তা দেবে। এই ঐতিহাসিক অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, এটি পাকিস্তানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির এক অনন্য প্রমাণ। তিনি এই সাফল্যের পেছনে চীনের দীর্ঘদিনের কারিগরি সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সুপারকোর বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানিয়ে এই মিশনকে জাতীয় গর্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন।