এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
পাকিস্তান সরকার দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশের পণ্য ইরানে পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ট্রানজিট অব গুডস অর্ডার ২০২৬’ জারি করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের গত সোমবারের (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫০-এর অধীনে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। এছাড়া ২০০৮ সালের পাকিস্তান-ইরান সড়কপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন চুক্তির আলোকে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন এই আদেশের ফলে এখন থেকে যেকোনো তৃতীয় দেশ থেকে ইরানগামী পণ্য পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে পরিবহন করা যাবে। পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে পাকিস্তান সরকার একাধিক নির্দিষ্ট করিডোর নির্ধারণ করে দিয়েছে। ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের প্রধান রুট হিসেবে করাচি বন্দর, গোয়াদার বন্দর এবং তাফতান সীমান্তকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে ‘ট্রানজিট’ শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এটি শুধুমাত্র সেই সব পণ্যকে বোঝাবে যা পাকিস্তানের বাইরে থেকে আসবে এবং অন্য কোনো দেশে গিয়ে শেষ হবে। আদেশে ‘ক্রস-স্টাফিং’-এর বিধানও রাখা হয়েছে। কাস্টমস নিয়ম মেনে পণ্য এক কনটেইনার বা এক পরিবহন মাধ্যম থেকে অন্যটিতে স্থানান্তর করা যাবে।
পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ট্রানজিট ব্যবস্থা কাস্টমস আইন ১৯৬৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি চালানের বিপরীতে আর্থিক গ্যারান্টি প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পাকিস্তানের ভূমিকা আরও জোরদার হবে এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে ইসলামাবাদ। বর্তমানে এই আদেশের আওতায় প্রাথমিক পণ্য পরিবহন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন