মে ৪, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
চলমান যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় ১৪ দফা নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটন সমর্থিত ৯ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে তেহরান এই প্রস্তাব পাঠায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই প্রস্তাবগুলো বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন পর্যালোচনা করছে।ইরানের নতুন এই প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তেহরান চায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তি করতে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে ৯ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তাতে মূলত দুই মাসের যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ ছিল। ইরান সেই প্রস্তাবের বিপরীতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে এই নতুন ১৪ দফা দাখিল করেছে।
ইরানের প্রস্তাবের প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর কোনো হামলা হবে না এমন নিশ্চয়তা প্রদান, ইরানের আশপাশ থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা। এ ছাড়া ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়েছে এই প্রস্তাবে।
লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন ব্যবস্থাপনা চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান।পারমাণবিক ইস্যুতে তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে একটি `লাল রেখা` বা চরম সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ফলে এই বিষয়টি আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-কে জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানোর পর এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র এখন কূটনীতির পথ বেছে নেবে নাকি সংঘাতের দিকে এগোবে, সেটিই দেখার বিষয়।
কাতারভিত্তিক জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের এই প্রস্তাবে কিছুটা নমনীয়তা দেখা গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ নিয়ে পূর্বশর্ত কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের মতো বিষয়ে দুই দেশ এখনো বিপরীত অবস্থানে রয়েছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক সৌফান সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো কেনেথ ক্যাটজম্যান মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ইরানের চরম অবিশ্বাসই এই আলোচনার সবচেয়ে বড় অন্তরায়। তাঁর মতে, পারমাণবিক ইস্যুর চেয়েও বড় সমস্যা হলো তেহরান বিশ্বাস করে যে যতক্ষণ না পূর্ণাঙ্গ অবরোধ তুলে নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনায় যাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতে চান। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে নিকট ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সমাধান আসা কঠিন হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন