জুন ৭, ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
ভারতের রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানে মুখর ছিল এই সমাবেশ। এই স্লোগান ঘিরে ভারতে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে।তীব্র গরমের মধ্যে শনিবার এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জন্তর মন্তর এলাকা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। অনেকে তেলাপোকার মুখোশ পরে, কেউ হাতে বই বা ফুলের তোড়া নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ফেরত রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে।
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে এই পার্টির জন্ম। তিনি বেকার তরুণদের পরজীবী ও তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এরপর গত ১৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ককরোচ আন্দোলনের সূচনা করেন অভিজিৎ।
বিক্ষোভ সমাবেশে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, ভারতে সরকারবিরোধী মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে। তিনি বলেন, রাজনীতি নিয়ে কথা বললে বা সরকারের সমালোচনা করলে সন্তানদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা এখন দেশের প্রতিটি মায়ের।
অন্যদিকে এই আন্দোলন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা কিরেণ রিজিজু দাবি করেছেন, সিজেপির অনুসারীরা মূলত পাকিস্তান ও ভারতবিরোধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিজিৎ।সমাবেশস্থলে বিজেপির কর্মীদের অনুপ্রবেশের চেষ্টাও দেখা গেছে। তারা দিল্লি পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পাল্টা স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে। বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো রনজয় সেন মনে করেন, বিশাল ভারতে শুধু অনলাইন উপস্থিতি দিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা কঠিন। মাঠপর্যায়ে বাস্তব উপস্থিতির প্রয়োজন হয়। তবে বিশ্বের বৃহত্তম জেন-জি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ভারতের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন