আগস্ট ২১, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
জনসমক্ষে বোরকা এবং মুখ ঢেকে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নতুন আইন জারি করেছে পর্তুগাল। দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো চলতি সপ্তাহে এই সংক্রান্ত নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন। আইন অমান্য করলে অপরাধের মাত্রাভেদে সর্বনিম্ন একশ পঞ্চাশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ তিন হাজার ইউরো পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা গুনতে হতে পারে।নতুন এই আইনের ফলে জনসমক্ষে মুখ বা পরিচয় গোপন করে এমন কোনো আবরণ পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনের বিধান অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত কারণ, পেশাগত দায়িত্ব, শিল্পকলা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে মুখ ঢাকা যাবে না। তবে উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন এবং উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে মুখ ঢাকার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি। একই সঙ্গে ধর্ম, লিঙ্গ বা বংশপরিচয়ের কারণে কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢাকতে বাধ্য করাও পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমে এটিকে মূলত বোরকা আইন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগ সুদৃঢ় করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।আইনটি প্রণয়নের পর থেকেই দেশটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনে পার্লামেন্টে এই বিল পাস হলেও বামপন্থী দলগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। মানবাধিকার সংগঠন এবং কয়েকটি আইনজীবী সংঘ এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানিয়েছে যে, এটি নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এর আগে ইউরোপের ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ জনসমক্ষে মুখ ঢাকা পোশাবের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন