সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আফগানিস্তানের ১০টি সুনির্দিষ্ট স্থাপনায় সমন্বিত বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ড্রোন ছোঁড়ার ঘটনার ঠিক এক দিন পর বৃহস্পতিবার ভোরে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্তজুড়ে চরম সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন যে এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলো।
বুধবার আফগানিস্তান থেকে পাঠানো আটটি ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়। আকাশসীমা লঙ্ঘনের এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান তার সার্বভৌম আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী পরিচালিত এই অভিযান ছিল সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্ট ও সীমিত যা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর কার্যকর করা হয়েছে।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো ধরনের বৈরী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং নিজ ভূখণ্ডে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি কাবুল সরকারকে সতর্ক করেছেন। ইসলামাবাদ দাবি করেছে যে আফগান সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা ও নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে কাবুল কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি। পাকিস্তানি ভূখণ্ডে হামলা পরিচালনার উদ্দেশ্যে আফগান মাটিকে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা মহল।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানি বিমানবাহিনী। ওই অভিযানে ২৮ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাল্টাপাল্টি ড্রোন উড্ডয়ন ভারী অস্ত্রের গোলাগুলি ও বিমান হামলার ঘটনায় ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সীমান্ত সম্পর্ক চরম উত্তপ্ত রূপ নিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন