সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার সরকার। তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার স্বার্থে তেহরানের সঙ্গে কনস্যুলার সম্পর্ক চালু থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকেই ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত রাখা এবং আন্তদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলার কৌশলগত কারণ দেখিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বোগোটা প্রশাসন। সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী এবং মাদক চোরাচালানকারী চক্রের কথিত যোগসূত্র রয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বাইরে থাকা বিভিন্ন সার্বভৌম দেশের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়গুলোকে সম্পর্ক ছিন্নের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাভাবিক চলাচলে অন্তরায় সৃষ্টি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি তদারকিতে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টিও দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট দেশটির ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বৈদেশিক নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে শুরু করেন ডানপন্থি নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা।
এর আগে দেশটির সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর প্রশাসন ২০২৪ সালের মে মাসে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন ও গণহত্যার অভিযোগে তেল আবিবের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে পুনরায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরালো করার উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষমতায় বসার আগেই গত জুলাই মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে যোগাযোগ শুরু করেন দে লা এসপ্রিয়েলা। দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর আলোচনার অংশ হিসেবে জেরুজালেমে নিজেদের দূতাবাস খোলারও পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটি।
গত আগস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর কলম্বিয়া সফরে এসে প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি কলম্বিয়ার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরপরই আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কিত সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের দাবিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় কলম্বিয়ার নতুন সরকার, যা তেল আবিবের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন