রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে দৃঢ় অবস্থানে পুতিন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৮:০৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে দৃঢ় অবস্থানে পুতিন

ছবি - সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব নতুন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না। পুতিনের মতে, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র, কিন্তু কোনো সম্মানজনক দেশ চাপের মুখে নত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যেই রাশিয়ার দুটি বৃহত্তম তেল কোম্পানি রসনেফট এবং লুকওইলের ওপর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

এই দুটি কোম্পানি বিশ্বব্যাপী মোট তেল উৎপাদনের পাঁচ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে।ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়ে গেছে। একইসাথে, চীনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলো অস্থায়ীভাবে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভারতের তেল শোধনাগারগুলোও আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

স্বল্পমেয়াদে রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা না লাগলেও, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করা। পুতিন পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি রাশিয়ার সরবরাহ কমে যায়, তবে তেলের দাম আরও বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের জন্যই বড় সমস্যা তৈরি করবে।এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে পুতিনের মন্তব্যকে একরকম উড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, পুতিন যদি মনে করেন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কম হবে, সেটি ভালো। তবে ছয় মাস পর দেখা যাবে বাস্তবতা কী। দুই নেতার মধ্যে সম্প্রতি নির্ধারিত একটি সম্মেলনও বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বৈঠকটি আয়োজন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসত না, যদিও পুতিন দাবি করেছেন বৈঠকটি স্থগিত হয়েছে, বাতিল নয়। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করে আগামী দুই বছরের জন্য কিয়েভের আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।

তবে বেলজিয়ামের আপত্তির কারণে রাশিয়ার আটক রাখা সম্পদ ইউক্রেনকে ঋণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাবটি আটকে গেছে। মস্কো হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এমন সম্পদ জব্দ করা হলে ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ জানানো হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নতুন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানালেও রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতিতে আনতে আরও আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন।