সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০২:২২ পিএম
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আগ্রাসী ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত ও বিস্ময়কর নাম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। জাতীয় দলের একাদশে স্থায়ী জায়গা এখনো নিশ্চিত না হলেও বিগত দুই বছরে তাঁর এই উল্কার মতো দ্রুত উত্থান ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চেও দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এমনকি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বয়সভিত্তিক জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামালের সঙ্গেও এই কিশোর ব্যাটারের তুলনা টানছেন অনেকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত কম বয়সে কোনো ব্যাটারের এমন প্রভাব ফেলার নজির বিরল।
ইতোমধ্যে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের একাধিক প্রভাবশালী ক্রিকেটারের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই চোখধাঁধানো অগ্রগতির ফলে জাতীয় দলের শীর্ষ ব্যাটিং অর্ডারে জায়গা পাওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তুমুল প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। সিনিয়র ক্রিকেটার সঞ্জু স্যামসনকে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করে ক্রীড়া মহলে আলোচনা চললেও সতীর্থ ক্রিকেটার ধ্রুব জুরেল মনে করেন এই দুজনের মধ্যকার তুলনা টানা সম্পূর্ণ অর্থহীন ও অবান্তর।
সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার পডকাস্ট অনুষ্ঠানে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নিয়ে বৈভবের ভূয়সী প্রশংসা করেন জুরেল।m তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, তরুণ এই ব্যাটার চারদিক থেকে যে তুমুল প্রশংসা পাচ্ছেন তা শতভাগ তাঁর প্রাপ্য। জুরেল বলেন, বৈভব মাঠে যা করে দেখাচ্ছে তা সাধারণ মানুষ স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারবে না। মাত্র ১৫ বছর বয়সী একটি ছেলে যেভাবে বিশ্বের বড় বড় বোলারদের পিটিয়ে মাঠছাড়া করছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। এই অসাধারণ প্রতিভার প্রতি তাঁর মনে বিন্দুমাত্র ঈর্ষা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন বিস্ময়কর সামর্থ্যের সঙ্গে কারও তুলনা খোঁজা সাধারণ বোধগম্যতার বাইরে।
সূর্যবংশীর সঙ্গে সিনিয়র ব্যাটারদের পার্থক্যের জায়গাটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন জুরেল। তিনি উল্লেখ করেন, সমকক্ষতা ও তুলনা কেবল তখনই আসে যখন কেউ বিশ্বাস করে যে সে নিজেও ওই একই ধরনের কাজ করতে সক্ষম। কিন্তু বৈভব অন্যান্য সাধারণ ব্যাটারদের চেয়ে বহু গুণে এগিয়ে রয়েছে। দলগতভাবে সতীর্থরা শুধু মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাঁর ব্যাটিং তাণ্ডব উপভোগ করেন বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, ম্যাচের পাওয়ারপ্লে চলাকালে এই তরুণ যখন বোলারদের ওপর অপ্রতিরোধ্য আক্রমণ শুরু করেন, তখন তা অন্য সতীর্থদের মধ্যেও শুরু থেকেই ভয়ডরহীন ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার বাড়তি প্রেরণা জোগায়।
এদিকে জাতীয় দলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত ফর্মে সময় পার করছেন স্বয়ং ধ্রুব জুরেলও। সবশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজে দেবদূত পাডিকালের পর তিনি ছিলেন ভারতীয় দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক এবং টুর্নামেন্টের সার্বিক তালিকায় তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার। ওই আসরে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মোট ১৭৩ রান, যার মধ্যে একটি দৃষ্টিনন্দন অর্ধশতক ছাড়াও রয়েছে একটি চমৎকার শতক। ক্যারিয়ারের শুরুতে টেস্ট একাদশের উইকেটরক্ষক পজিশনে জায়গা পেতে ঋষভ পান্তের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছিল তাঁকে। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট পরবর্তীতে তাঁর ব্যাটিং প্রতিভার ওপর গভীর আস্থা রেখে বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সুযোগকে শতভাগ কাজে লাগিয়ে নিজের শক্ত সামর্থ্যের ধারাবাহিক প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন