রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কৃষি অফিসের সহায়তা ছাড়াই ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগে ২ একরে ফলের মিশ্র বাগান

মোঃ সাদেকুল ইসলাম

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

কৃষি অফিসের সহায়তা ছাড়াই ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগে ২ একরে ফলের মিশ্র বাগান

ছবি: দিনাজপুর টিভি

স্থানীয় পর্যায়ে কোনো গবেষণাগার ও কৃষি অফিসের সহযোগিতা না পেয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২ একর জমিতে প্রায় ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আনারস, কমলা, খেজুর ও আপেলের এক বিশাল মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন এক প্রান্তিক কৃষি উদ্যোক্তা। তিনি জানান, ২ একর জমির মধ্যে ৭৫ শতক এবং অন্য পাশে ৪৯ শতক জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে, আর বাকি ৫১ শতক জমিতে রয়েছে খেজুর ও আপেলসহ বিভিন্ন জাতের মিশ্র গাছ। 

মূলত কোন জাতের ফল এই অঞ্চলের আবহাওয়ায় সবচেয়ে ভালো মানিয়ে নেয়, তা নিজস্ব পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতেই তিনি এই মিশ্র পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তবে এই অঞ্চলে প্রয়োজনীয় গবেষণাগার না থাকা এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের কার্যকর সাপোর্ট না পাওয়ার কারণে তিনি তাদের সাথে যোগাযোগ রাখাও বন্ধ করে দিয়েছেন। লাভ-লোকসানের বিষয়ে উদ্যোক্তা জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সময় হওয়ায় এখনই চূড়ান্ত বাণিজ্যিক হিসাব টানা সম্ভব নয়। 

বাগানের সেচ ব্যবস্থার জন্য গ্রাউন্ডিং করে বিদ্যুতের স্থায়ী লাইন টানা হয়েছে এবং বাগানের নিচু অংশের জমে থাকা পানি সরাতে মাটির নিচ দিয়ে প্রায় ১৯০ ফুট ৬ ইঞ্চি পাইপ বসিয়ে দোলা জমিতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শুধু পাইপেই প্রায় ৬২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। মাটির ওপর উন্মুক্ত নালা করলে ঘাস গজিয়ে আবাদে ব্যাঘাত ঘটত বলেই তিনি ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপন করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, কমলা, খেজুর বা আপেলের মতো দীর্ঘমেয়াদি গাছগুলোর ফলন মূলত ৫ বছর পার হওয়ার পর শুরু হয় এবং এসব গাছ ৪০ থেকে ৫০ বছর, এমনকি খেজুরের গাছ দেড়শ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। 

বাগানে থাকা ১০০টি চায়না কমলা গাছের মধ্যে এখনও ৫০টি গাছেও পুরোপুরি ফলন আসেনি, যার পেছনে অব্যাহত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ চলছে। গত জুলাই মাস থেকে শুরু করে টানা প্রায় ৪০ দিন ২ জন শ্রমিক দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার, চারা প্রতিস্থাপন, ঘাস পরিষ্কার ও সার প্রয়োগের কাজ করানো হয়েছে। তবে মূল গাছগুলো বড় হওয়ার ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে আনারস বিক্রি থেকে কিছুটা মুনাফা আসছে। 

এর পাশাপাশি অরহর ডাল, মাসকালাই ও হলুদ চাষ করেও কিছু বাড়তি আয় তুলছেন তিনি, যা তাকে বিনিয়োগের খরচ সামলাতে সহায়তা করছে। বাড়ির দক্ষিণ পাশের এই ২ একর বাগান ছাড়াও উদ্যোক্তার বাড়ির উত্তর ও পশ্চিম পাশে আরও আড়াই একর জমি ও পুকুর রয়েছে। কৃষি খাতের সাফল্য, মাঠের অভিজ্ঞতা ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের এমন বাস্তবমুখী লড়াইয়ের সবশেষ খবর দ্রুত জানতে দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর সাথে যুক্ত থাকুন।