রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
স্মার্ট কৃষির বিপ্লব

স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে চীনের চাষাবাদ

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে চীনের চাষাবাদ

চীনের কৃষিখাতে দ্রুত বাড়ছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশাল আবাদি জমিতে সনাতন কৃষিশ্রমের পাশাপাশি কাজ করছে ড্রোন, মাটি ও পরিবেশের তথ্য সংগ্রহকারী সেন্সর এবং স্বয়ংক্রিয় নানা ধরনের আধুনিক কৃষিযন্ত্র। চাষাবাদের বীজতলা প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা এবং তা শুকিয়ে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। এতে মাঠের কায়িক শ্রম ও সময়ের অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে, যার বিপরীতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে ফসলের উৎপাদন।

চীনের হুনান প্রদেশে কৃষিকাজের এই রূপান্তর সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। সেখানকার বিস্তীর্ণ আবাদি অঞ্চলে ফসলের চারা তৈরিতে এখন কৃত্রিম পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট গ্রিনহাউস ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠে ফসলের নিবিড় পরিচর্যা, বালাইনাশক ছিটানো, সার প্রয়োগ এবং বীজ বপন থেকে শুরু করে পাকা ধান কাটার মতো ভারি কাজেও উড়ছে বিশেষায়িত কৃষি ড্রোন। একই সাথে আবাদি জমির তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মাটির সার্বিক উর্বরতা সার্বক্ষণিক নজরে রাখতে জমিতে বসানো হয়েছে বিশেষায়িত স্মার্ট মাপযন্ত্র বা সেন্সর।

আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োগে কৃষিকাজ লাভজনক ও সহজ হওয়ায় আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরাও গ্রামে ফিরে কৃষিতে যুক্ত হচ্ছেন। চার বছরের বেশি সময় ধরে কৃষি ড্রোন পরিচালনা করছেন এমন একজন ড্রোন অপারেটর জানান, গত সাড়ে চার বছরে তিনি এক হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে কাজ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে কৃষি কাজে তিনি মোট চার হাজার ৪২টি সফল ড্রোন ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তিফসল কাটার পরবর্তী শুকানো ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায়ও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। আর্দ্রতার কারণে ধান নষ্ট হওয়া ঠেকাতে হুনানে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ হাজার ২০০ বর্গমিটার আয়তনের বিশাল আধুনিক ড্রাইং বা শুকানো কেন্দ্র।

এই কেন্দ্রে প্রতিটি ৩০ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ২০টি ড্রাইং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ টন পর্যন্ত পাকা ধান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শুকানো সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে অতিরিক্ত আর্দ্রতার মুখে ভেজা ধান পচে যাওয়া কিংবা ফেটে নষ্ট হওয়ার যে ঝুঁকি থাকে, কৃত্রিম তাপ ও নিয়ন্ত্রিত বাতাসে শুকানোর ব্যবস্থা সেই অপচয় প্রায় পুরোপুরি দূর করেছে। এটি বিস্তৃত অঞ্চলের কৃষকদের সময়মতো ধান শুকাতে বড় ধরনের সক্ষমতা যুগিয়েছে।

কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগে গতি আনতে ২০২৪ সালে হুনান প্রদেশের কাজংপিং এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাষ্ট্রীয় সেই নীতিগত উৎসাহের হাত ধরেই অঞ্চলটিতে আজ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির এই ব্যাপক বিপ্লব বাস্তব রূপ পেয়েছে।