রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আলী হাসান ও আলেয়া বেগমের নতুন গান

বিনোদন ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আলী হাসান ও আলেয়া বেগমের নতুন গান

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জোরালো সামাজিক বার্তা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে নতুন সচেতনতামূলক গান ‘কইন্যা’। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আলেয়া বেগম, আলী হাসান এবং ইমন চৌধুরীর যৌথ পরিবেশনায় তৈরি এই গানটি সমাজ থেকে অপরিণত বয়সের বিয়ের অভিশাপ দূর করার সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিবিসি হ্যালো চেক প্ল্যাটফর্মে এই সংগীতচিত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়। গানটির কথায় মূলত দুই ভাইয়ের মধ্যকার একটি নাট্যরূপের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে বাল্যবিবাহের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে।

গল্পের শুরুতে ছোট ভাই যখন উচ্ছ্বাসের সাথে মিষ্টি নিয়ে আসে এবং জানায় যে তার বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে, তখন বড় ভাই তাকে এর নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন। ছোট ভাই যখন জানায় যে পাত্রী কেবল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে এবং বিয়ের পর তাকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তখন বড় ভাই এই প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার তীব্র সমালোচনা করেন। বিয়ের পর মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার এই অজুহাত যে সমাজের বেশিরভাগ ঘরেই শেষ পর্যন্ত একটি ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়, তা গানে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

সংগীতটিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বিয়ের জন্য মেয়ের শারীরিক ও মানসিক পরিপক্কতা অত্যন্ত জরুরি। মেয়ে যদি সংসার বোঝার মতো পরিণত না হয়, তবে সেই পরিবারে কখনোই শান্তি আসে না বলে গানে সতর্ক করা হয়েছে। সাময়িক মোহে বা ঘটকের সাজানো মিষ্টি কথায় ভুলে অপরিণত মেয়েকে বিয়ে করলে যে সারা জীবন সেই ভুলের কঠিন মাসুল গুনতে হয়, তা অত্যন্ত সাবলীল ও বোধগম্য ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীরা। গানে বলা হয়েছে, মেয়েরা হলো প্রতিটি বাড়ির আলো, তাই সময় থাকতেই পরিবারের এই সত্যটি উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও ক্ষমতায়নের ইতিবাচক দিকটিও গানে সমান গুরুত্ব পেয়েছে। গানের কথায় বলা হয়েছে, স্বামী ও স্ত্রীর শিক্ষা এবং চিন্তাধারা যখন সমান হয়, তখনই মূলত একটি সুন্দর ও টেকসই সংসার গড়ে ওঠে। একজন নারী যখন শিক্ষিত হয়ে নিজে উপার্জন করতে শেখে, তখন সে কীভাবে সংসারের সবচেয়ে শক্ত খুঁটি হয়ে পরিবারের সবার কথা ভেবে চলতে পারে, সেই চিত্রটিও গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

গানের একেবারে শেষাংশে পুরুষদের দায়িত্ববোধের জায়গাটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, "পুরুষ মানুষ সেই তো ভাই বুদ্ধি দিয়া চলে, অল্প বয়সী মেয়ে বিয়া কখনো নাই করে।" এই পংক্তির মাধ্যমে মূলত সমাজকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যারা বুদ্ধিমান ও প্রকৃত সচেতন পুরুষ, তারা কখনোই কোনো নাবালিকা বা অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন না।