রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফিলিস্তিনি খেজুর উৎপাদনে রেকর্ড, বাড়ছে রপ্তানি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৯:৪৮ এএম

ফিলিস্তিনি খেজুর উৎপাদনে রেকর্ড, বাড়ছে রপ্তানি

চলতি কৃষি মৌসুমে ফিলিস্তিন রেকর্ড পরিমাণ খেজুর উৎপাদন করেছে, যা দেশটির কৃষি অর্থনীতির জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ মৌসুমে দেশটিতে প্রায় ২৫ হাজার ৩০০ টন খেজুর উৎপাদিত হয়েছে। এই পরিমাণ গত বছরের ২২ হাজার টনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা প্রায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ফিলিস্তিনের খেজুর উৎপাদন মূল্যায়ন বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটি সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

কমিটি জানায়, টানা ২১ দিন ধরে মাঠ পর্যায়ে পরিচালিত এক  সমীক্ষার পর এই চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া গেছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশজুড়ে ৮৯৩টি খেজুর বাগানে মোট ৩ লাখ ৫১ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে, যার মধ্যে ৩ লাখ ২২ হাজার গাছ বর্তমানে ফলন দিচ্ছে। এছাড়াও নতুন করে আরও ১২ হাজার ৩০০ গাছ লাগানো হয়েছে, যা এখনো উৎপাদনে আসেনি।

কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফ বারাকাত বলেছেন, খেজুর খাত এখন ফিলিস্তিনের অন্যতম প্রধান কৌশলগত কৃষি সম্পদে পরিণত হয়েছে। সরকার, বেসরকারি খাত এবং কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই উৎপাদন ও রপ্তানিতে এই বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ফিলিস্তিনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছর দেশটি ৩৫টিরও বেশি দেশে প্রায় ১৬ হাজার টন খেজুর সফলভাবে রপ্তানি করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ফিলিস্তিনি খেজুর’ একটি স্বতন্ত্র ও পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

এই সাফল্য শুধু রপ্তানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও ফিলিস্তিনি খেজুরের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পণ্যের উচ্চমান বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যে নিখুঁতভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছেন,

তার প্রশংসা করে আশরাফ বারাকাত বলেন, এটি এই খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উৎপাদনের এই প্রবৃদ্ধি যদি অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ফিলিস্তিন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ খেজুর রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে।