মে ২২, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ইসলাম ধর্মে সামর্থ্যবানদের জন্য হজ অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হলেও বিশেষ যে অবস্থায় বদলি হজের বিধান প্রযোজ্য হয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন গবেষকরা। সাধারণত কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর শারীরিক সক্ষমতা জড়ালে বা মৃত্যুর কারণে নিজে যেতে না পারলে বদলি হজ করানো যায়। ইসলামি পরিভাষায় এর অর্থ হলো একজনের জিম্মাদারি অন্যজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা।তবে বদলি হজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি ও ধর্মীয় নিয়ম রয়েছে।
ইসলাম বিষয়ক লেখক ও গবেষক শরীফ মোহাম্মদের মতে, যার আর্থিক সামর্থ্য আছে কিন্তু আজীবন অসুস্থতা বা বার্ধক্যের কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম, তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ হজ করতে পারবেন। যদি কোনো ব্যক্তি হজ ফরজ থাকা অবস্থায় মারা যান, তবে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশদের বদলি হজ করানো ওয়াজিব। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা আনিসুজ্জামান শিকদার জানান, কেউ যদি ওসিয়ত নাও করে যান, তবুও সন্তানদের পক্ষ থেকে মা-বাবার নামে এই হজ করানো উত্তম। তবে যার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তিনি অন্যকে দিয়ে করালে ফরজ আদায় হবে না।হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধানত ৪টি ওজরের কারণে জীবিত ব্যক্তির বদলি হজ বৈধ হয়।
এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, অন্যায়ভাবে কোথাও অবরুদ্ধ থাকা, হজের পথ অনিরাপদ হওয়া এবং নারীদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত মাহরাম পুরুষ সঙ্গে না পাওয়া। তবে জীবিত অবস্থায় বদলি হজ করানোর পর কেউ যদি পুনরায় সুস্থ বা সংকটমুক্ত হন, তাহলে পূর্বের বদলি হজটি বাতিল হয়ে যাবে। তখন তাকে নিজের হজ নিজেকেই করতে হবে। আলেমদের মতে, বদলি হজের সম্পূর্ণ খরচ মূল ব্যক্তি বা তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে বহন করতে হবে এবং নিজের নিকটাত্মীয়দের দিয়ে এটি করানো সবচেয়ে উত্তম।
নারীর পক্ষ থেকে পুরুষ কিংবা পুরুষের পক্ষ থেকে নারী বদলি হজ করতে পারবেন, এতে কোনো ধর্মীয় বাধা নেই। এমনকি আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির যদি আর্থিক সামর্থ্য থাকে এবং মুক্তির সম্ভাবনা না থাকে, তবে তার পক্ষ থেকেও পরিবার বদলি হজ করাতে পারবে। তবে যিনি এই হজ সম্পাদন করবেন, তাকে অবশ্যই সেই দেশের বাসিন্দা বা নাগরিক হতে হবে যে দেশের পক্ষ থেকে তিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন