জুন ৩, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
বাঙালীদের চিরন্তন খাদ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো দৈনিক খাদ্যতালিকায় থাকা ভাত ও রুটি, যা প্রতিদিনের শরীরের প্রাত্যহিক পুষ্টি ও শক্তির প্রধানতম উৎস হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ করে। তবে বর্তমান আধুনিক যুগে দ্রুত ওজন কমানো কিংবা শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখার লক্ষ্যে অনেকেই কম-কার্বোহাইড্রেট ডায়েটের অংশ হিসেবে এই প্রধান দুটি খাবার পুরোপুরি বর্জন করছেন।
বিখ্যাত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ৩০ দিন খাদ্যতালিকা থেকে ভাত ও রুটি সম্পূর্ণ বাদ দিলে মানবশরীরে একাধিক ইতিবাচক ও নেতিবাচক হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে।কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ এই ভারী খাবারগুলো হঠাৎ বাদ দেওয়া শরীরের অভ্যন্তরীণ বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় এক বিশাল পরিবর্তন ও নতুন শারীরিক চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করে।
শরীরে কার্বোহাইড্রেটের জোগান বন্ধ হলে মানুষের যকৃৎ বা লিভার শক্তির বিকল্প উৎস হিসেবে কোষে জমে থাকা ক্ষতিকর চর্বি বা ফ্যাট পোড়ানো শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘কিটোসিস’ বলা হয়।
এর ফলে শুরুর দিকে শরীরে কিছুটা ক্লান্তি বা অলস ভাব অনুভূত হলেও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে রক্তে শর্করা বা ব্লাড সুগারের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বিশেষ করে সাদা ভাত বা রিফাইন করা আটা-ময়দা বর্জনের কারণে প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই শরীর থেকে অতিরিক্ত জমা পানি কমে গিয়ে ওজন অত্যন্ত দ্রুত হ্রাস পায়।উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার এই ইতিবাচক প্রবণতা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা প্রি-ডায়াবেটিসের রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি আরোগ্যের জন্য বেশ উপকারী।
তবে ভাত ও রুটি পুরোপুরি বাদ দিলে শরীরে ভিটামিন বি, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো অত্যন্ত বা অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস বা পুষ্টি উপাদানের তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ার শঙ্কা থাকে। বিকল্প হিসেবে প্রতিদিন পর্যাপ্ত আঁশ বা ফাইবারযুক্ত টাটকা শাকসবজি না খেলে মারাত্মক কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি হওয়া ছাড়াও মস্তিষ্কে তৃপ্তিদায়ক খাবারের প্রতি এক ধরনের তীব্র মানসিক ক্ষুধা ও অনীহা কাজ করতে পারে। তাই চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য সম্পূর্ণ শর্করা বর্জন না করে ওটস, বার্লি, ডালিয়া কিংবা ফলের মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প কার্বোহাইড্রেট খাদ্যতালিকায় রাখা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও যৌক্তিক।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন