অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০২:১১ পিএম
শরীরে নানা শৈল্পিক নকশা আঁকার মাধ্যম হিসেবে ট্যাটুর জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে বাড়লেও এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার প্রশ্ন। ট্যাটু আঁকার প্রক্রিয়ায় ত্বকের ভেতরে বারবার সূচ প্রবেশ করাতে হয়। তাই স্টুডিওর সামগ্রিক পরিবেশ, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক কালি এবং পরবর্তী স্বাস্থ্যবিধিতে সামান্যতম অবহেলাও মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে। ট্যাটু বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ ট্যাটু আঁকার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো স্টুডিওর সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা।
ট্যাটু করার স্থানটি নিয়মিত মেডিকেল-গ্রেড বিশেষায়িত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। শামান ইঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্যাটু বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত যাদুবংশী জানান, পেশাদার স্টুডিওগুলোতে এমন সব পৃষ্ঠ বা মেঝে ব্যবহার করা হয় যা খুব সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং যেখানে কোনো ধরনের জীবাণু জমতে পারে না। একই সঙ্গে স্টুডিওতে প্রতিদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে বজায় রাখা আবশ্যক।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ট্যাটুর সরঞ্জাম সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখা। পুনর্ব্যবহারযোগ্য ধাতব গ্রিপ বা টিউবের মতো যন্ত্রপাতি উচ্চচাপের বাষ্পযুক্ত অটোক্লেভ মেশিনে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় জীবাণুমুক্ত করা হয়। তবে সূচ ও কালি রাখার ক্যাপের মতো স্পর্শকাতর সামগ্রী একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া হয়, যা একক ব্যবহারযোগ্য উপাদান হিসেবে পরিচিত। গ্রাহকের চোখের সামনে সিলগালা প্যাকেট থেকে নতুন সূচ ও অন্যান্য সামগ্রী বের করা হলে সেবাপ্রত্যাশীর মনেও নির্ভরতা ও স্বস্তি তৈরি হয়।

ট্যাটু করার সময় শিল্পীরা বিশেষ গ্লাভস পরিধান করেন এবং কাজের ধাপ অনুযায়ী তা নিয়মিত পরিবর্তন করেন। সংক্রমণ এড়াতে অনেক শিল্পী মাস্ক, অ্যাপ্রন কিংবা হাত ঢাকার বিশেষ নিরাপত্তা পোশাকও ব্যবহার করে থাকেন। কাজ শুরু করার আগে গ্রাহকের ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ অ্যান্টিসেপ্টিক দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লোম ফেলে দিয়ে ত্বককে পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করা হয়।
ট্যাটুর কালি থেকেও রক্ত ও ত্বকে মারাত্মক দূষণ ছড়ানোর প্রবল আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বড় বোতল থেকে বারবার সরাসরি কালি না নিয়ে একবার ব্যবহারযোগ্য ছোট ক্যাপে নির্দিষ্ট পরিমাণ কালি ঢেলে নেওয়া হয় এবং কাজ শেষে তা ফেলে দেওয়া হয়। ব্যবহৃত সূচ বারবার বোতলের কালিতে বা অন্য কোনো পাত্রে ডুবিয়ে পুনরায় ব্যবহার না করার বিষয়ে শিল্পীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হয়।
ট্যাটু আঁকা শেষ হলেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নতুন ট্যাটুর ত্বক কীভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে, কোন অ্যান্টিসেপ্টিক মলম ব্যবহার করতে হবে এবং ত্বক শুকানোর সময় কোন কাজগুলো সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে, সে বিষয়ে গ্রাহককে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ধুলোবালি ও বাইরের জীবাণু থেকে ক্ষতস্থান সুরক্ষিত রাখতে শুরুতে স্টেরাইল ব্যান্ডেজ বা উপযুক্ত মোড়ক দিয়ে ট্যাটুর স্থান ঢেকে দেওয়া হয়।
সময়ের সঙ্গে ট্যাটুশিল্পের প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিধিতে নিয়মিত পরিবর্তন আসছে। তাই পেশাদার শিল্পীরা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিয়ে জীবাণুনাশকের উন্নত পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত অবগত থাকেন।
ট্যাটু করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেবল সুন্দর নকশা বা শিল্পীর দক্ষতার ওপর নির্ভর করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। স্টুডিওর সামগ্রিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন কি না, ডিসপোজেবল নতুন সূচ ও কালির ক্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম সঠিক যন্ত্রে জীবাণুমুক্ত করা হয় কি না এবং পরবর্তী যত্নের সুনির্দিষ্ট লিখিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। শরীরে ট্যাটু একটি স্থায়ী শিল্পকর্ম হওয়ায় সাময়িক অসচেতনতা এড়িয়ে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন