শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,
শামা ওবায়েদের বক্তব্য

অন্যের দাবার বোর্ড হতে চাই না, নিজেদের শর্তে খেলব: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

অন্যের দাবার বোর্ড হতে চাই না, নিজেদের শর্তে খেলব: শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশ এখন এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দেশটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং অন্যের খেলার দাবার বোর্ড হতে চায় না। শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘নতুন করে লেখা এক বিশ্ব’ শীর্ষক সেশনে এই মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ নিজেদের শর্তে খেলতে চায় এবং মাথা উঁচু রেখে বাকি বিশ্বের সঙ্গে আলোচনা, সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব করতে প্রস্তুত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো জনগণের স্বার্থ। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সেখানে আমাদের দুটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হলো অপ্রত্যাশিত জ্বালানি সংকট এবং অন্যটি হলো বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাস ও কাজ করেন।"

জ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈচিত্র্যকরণ, নতুন উৎস এবং নতুন ক্ষেত্রগুলোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা যায়। দেশে নিজস্ব গ্যাস ও এলএনজির উৎস থাকলেও বিগত সরকারের আমলে তা কখনো অনুসন্ধান করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই এর অনুসন্ধান শুরু করেছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের দিকে নজর দিয়ে প্রতিটি নাগরিককে জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চেষ্টা চলছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ সবসময়ই এই বিষয়ে অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। তবে একই সঙ্গে অংশীদার, বন্ধু, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে, যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসন সম্ভব করার জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায়।