অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
ভালোবাসার যত্নশীল মানুষটিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন আজ। প্রতি বছর ৩ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস। সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ এবং জীবনের বিশেষ মানুষটির প্রতি ভালোবাসা জানাতে তরুণ-তরুণীরা দিনটিতে নানা পরিকল্পনা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আজ প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের ছবি, আবেগঘন কথা ও নানা ভালোবাসার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই দিবসের কোনো আনুষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। ধারাবাহিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম এই দিবসটির সূচনা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে এসে এটি বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে প্রতি বছর ১ আগস্ট উদযাপিত হওয়া গার্লফ্রেন্ড ডে বা প্রেমিকা দিবসের অনুপ্রেরণাতেই মূলত তরুণদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের উদ্দেশ্যে এই দিনটি উদযাপনের রীতি গড়ে ওঠে।
বর্তমান সময়ে যেকোনো দিবস উদযাপনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে দিবসটি ঘিরে দিনভর চলছে তুমুল আলোচনা ও ট্রেন্ড। সকাল থেকেই ইনস্টাগ্রাম এবং এক্সে দিবস সম্পর্কিত হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং তালিকায় রয়েছে। লাখ লাখ ব্যবহারকারী নিজেদের সঙ্গীর ছবি দিয়ে পোস্ট করছেন। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তরুণীরা সম্পর্কের শুরুর দিকের এবং বর্তমান সময়ের ছবির কোলাজ বানিয়ে আবেগঘন আবহসংগীত জুড়ে দিয়ে বিভিন্ন রিলস তৈরি করছেন।
অনেকে সম্পর্কের বিষয়টি পুরোপুরি জনসমক্ষে আনতে না চেয়ে কেবল হাত ধরা, কফির কাপ হাতে আবছা অবয়ব কিংবা সঙ্গীর ব্যাকপ্রোফাইলের ছবি স্টোরিতে যুক্ত করে ট্রেন্ডে অংশ নিচ্ছেন। এর সমান্তরালে দিবসটি ঘিরে সিঙ্গেলদের মজার মজার মিম ও কৌতুকপূর্ণ বক্তব্যও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা একটি রসাত্মক পরিবেশ তৈরি করেছে। অনলাইনের বাইরেও বাস্তবে দিনটি অনেকেই বিশেষভাবে উদযাপন করছেন।
ব্যস্ত জীবনে প্রিয় মানুষকে একান্ত সময় দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে বিবেচিত হয়। পছন্দের গ্যাজেট, প্রিয় বই, সুগন্ধি কিংবা হাতে লেখা চিঠির পাশাপাশি প্রিয় রেস্তোরাঁয় ডিনার, লং ড্রাইভ বা ঘরে বসে পছন্দের চলচ্চিত্র দেখার মাধ্যমে দিনটি কাটাচ্ছেন অনেকে।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষরা সাধারণত নিজেদের অনুভূতি কিংবা মানসিক চাপের কথা সহজে প্রকাশ করতে পারেন না। সম্পর্কে তাদের আত্মত্যাগ বা যত্নশীল আচরণ অনেক সময়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। এমন একটি দিন তাদের মানসিক তৃপ্তি দিতে পারে। উপহারের আর্থিক মূল্যের চেয়েও জীবনে তাদের উপস্থিতির প্রতি প্রকাশ করা আন্তরিক কৃতজ্ঞতাই একটি সম্পর্ককে সুন্দর করে তুলতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন