বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আজ মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে না হাসিনা-কামালের রায়ের কপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১২:৪৯ পিএম

আজ মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে না হাসিনা-কামালের রায়ের কপি

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি আজ (মঙ্গলবার) সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হচ্ছে না। এই বিলম্বের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যানের অসুস্থতার কথা জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল প্রশাসন।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার রায়ের কপি আজ ১৮ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা ছিল।

এই কপি পাওয়ার পরই দুই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং তাদের ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার (হস্তান্তর) প্রক্রিয়া শুরু করার কথা।

এছাড়া, মামলার রাজসাক্ষী হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের জন্যও রায়ের একটি কপি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের আকস্মিক অসুস্থতায় এই প্রক্রিয়া আজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল সূত্র।এর আগে গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেন, তিন আসামির বিরুদ্ধেই আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে এবং একটি অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।মামলার অপর আসামি, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি এই মামলার একমাত্র গ্রেফতারকৃত আসামি।

গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিনই তিনি অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেছিলেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে গণভবনে উসকানিমূলক বক্তব্য, আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, এবং রংপুর, চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। রায়ের কপি প্রেরণে এই বিলম্বের কারণে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ শুরু হতে কিছুটা দেরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।