শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রাখতে নতুন কৌশল প্রণয়ন করছে ইসি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৯:৫৩ এএম

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রাখতে নতুন কৌশল প্রণয়ন করছে ইসি

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের দায়িত্বের প্রতি অবিচল রাখা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই কৌশল দ্রুতই চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ কৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে নির্বাচনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইসি যে প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:কমিশন নিজ উদ্যোগে এসিআর দেবে:

এখন থেকে নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) দেবে, যা আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দিতেন।

এই প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব থাকবে। ২. শাস্তি ও পুরস্কার: দায়িত্বে অবহেলা ও ত্রুটির অপরাধে যেমন ভর্ৎসনা শুনতে হবে, ঠিক একইভাবে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন ও কাজের জন্য পুরস্কৃতও করা হবে। ৩. প্রযোজ্যতা: এই নিয়ম রিটার্নিং কর্মকর্তা (আরইও), সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (এআরও), ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য—সবার জন্য প্রযোজ্য হবে।

ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অনেক নির্বাচনি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকায় এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা না যাওয়ায় কমিশন এই ভিন্ন কৌশল নিতে যাচ্ছে। আরইওদেরও ভোটের আগে-পরে তিনদিনের জন্য তাদের অধীনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বিষয়ে এসিআর দিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্বেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অতীতে এই সদস্যরা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু:পরিবর্তিত নির্দেশনা: আগামী নির্বাচন থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করা র‌্যাব, বিজিবি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

লক্ষ্য: ইসির বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত থাকবে এবং অপরাধীরা ভয় পাবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী ইসির এই উদ্যোগকে 'ইতিবাচক' হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এসিআর দেওয়ার ফলে কর্মকর্তাদের ওপর একটা চাপ থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্সের টহল বাড়ানো হলে অপরাধীরা ভয় পাবে এবং নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।