সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ১১:০৪ পিএম

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, "এই সরকারের সময়ে আরও কঠোরভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

সে ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।"আজ রোববার (৭ ডিসেম্বর) টিআইবি কার্যালয়ে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার প্রণয়ণে টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইফতেখারুজ্জামান জানান, ৫ আগস্টের পর দেশে দুর্নীতি বেড়েছে অথবা কমেছে— সে তথ্য টিআইবির কাছে এখন নেই, তবে দুর্নীতি অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, "দলবাজি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও গভর্ন্যান্স স্পেসের ক্ষমতাকে অপব্যহার করে ঠিকই একটি মহল দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছেন।" তিনি সরকারের অভ্যন্তরীণ কোনো কোনো ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।টিআইবি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ৫২টি প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এর মধ্যে প্রধান সুপারিশগুলো হলো:ব্যাংক কমিশন গঠন: ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট নিরপেক্ষ, স্বনামধন্য, স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত দক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠন করা।

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ: জুলাই জাতীয় সনদ ও এর বাইরে থাকা সংস্কার কমিশনগুলোর বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা।মানবাধিকার লঙ্ঘন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলের সব হত্যা, অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অব্যাহত রাখা।ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান শীতল সম্পর্ক নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ভারতের ইতিহাসে এটা (বর্তমান পরিস্থিতি) সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাজয়।

তিনি মনে করেন, ভারত যদি আরও বেশি বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান নিতে পারত, কর্তৃত্ববাদের পক্ষে অবস্থান থেকে সরে আসতে পারত, তাহলে সেটি বাংলাদেশের পক্ষে সহজতর হতো।তিনি ব্যবসায়ী মহলের প্রতিও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, "স্বচ্ছতার অভাবে কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী লাভবান হলেও বৃহত্তর অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে রাষ্ট্রকাঠামো দখল ও কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একটি অংশ ভূমিকা রেখেছে।"