রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বার বার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিঃসন্দেহে সরকারের ব্যর্থতা: ধর্ম উপদেষ্টা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০২:৩৭ পিএম

বার বার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিঃসন্দেহে সরকারের ব্যর্থতা: ধর্ম উপদেষ্টা

দেশে বারবার মব জাস্টিস বা গণপিটুনির মতো ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়াকে নিঃসন্দেহে সরকারের ব্যর্থতা বলে মনে করেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। রোববার ২১ ডিসেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই খোলামেলা মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা বলেন যে সরকার সবসময় দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকলেও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

তবে তিনি পরিষ্কারভাবে জানান যে সরকার এসব অপকর্ম রোধ করতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং সরকার এই ধরণের প্রবণতাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না।

সম্প্রতি ময়মনসিংহে এক যুবককে পুড়িয়ে হত্যার পৈশাচিক ঘটনায় গভীর দুঃখ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয় কাজ হিসেবে অভিহিত করেন। উপদেষ্টা জানান যে ময়মনসিংহের ওই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে তিনি নিজেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং ছায়ানট ভবনে যারা বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ছায়ানটে হামলা প্রসঙ্গে রাজনৈতিক কোনো নেতার বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে ব্যক্তিগত কে কী বললেন তা সরকারের বিবেচ্য নয়; বরং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে যা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে দেশে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি সরকারের মদদে হচ্ছে এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন যে সরকার বরং এসব প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে তারা যে দলেরই হোক না কেন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মব জাস্টিস বন্ধে সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।