রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি : মেঘালয় পুলিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০৭:০৯ পিএম

হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি : মেঘালয় পুলিশ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই প্রধান সন্দেহভাজন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যে দাবি করেছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) মেঘালয় পুলিশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশের এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘অসত্য’ বলে অভিহিত করেছে।

 ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেঘালয় পুলিশের সদর দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডিএমপির কর্মকর্তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে মেঘালয় পুলিশের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ হয়নি। অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখকে মেঘালয়ের কোনো এলাকায় শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করার তথ্য আমাদের কাছে নেই।

 এমনকি ডিএমপি যে ‘পুত্তি’ ও ‘সামী’ নামক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছে, মেঘালয় পুলিশ সেই গ্রেপ্তারের বিষয়টিও অস্বীকার করেছে।ডিএমপির দাবি কী ছিল? এর আগে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, হাদিকে গুলি করা ফয়সাল ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। ডিএমপির দাবি ছিল, ভারতীয় নাগরিক পুত্তি ও ট্যাক্সি ড্রাইভার সামীর সহায়তায় তাঁরা বর্তমানে মেঘালয়ের তুরা নামক জায়গায় অবস্থান করছেন।

ডিএমপির এই তথ্যের প্রতি সমর্থন না দিয়ে বিএসএফ-এর মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের মহাপরিদর্শক ওপি উপাধ্যায় বলেন, হালুয়াঘাট সেক্টর দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে কারও মেঘালয়ে প্রবেশের কোনো প্রমাণ বিএসএফ পায়নি। তিনি আরও বলেন, এসব দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। আমরা কেবল যাচাইকৃত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই কাজ করি।

বর্তমানে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বলে জানালেও বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া আখ্যানটি ভারতের পক্ষ থেকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা হলো। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নতুন এক কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতায় রূপ নিতে যাচ্ছে।