জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
দেশের খাদ্য উৎপাদনের সবচেয়ে বড় মৌসুম ‘বোরো’ আবাদ আসন্ন। রাসায়নিক সারের মোট চাহিদাও ৭০ শতাংশেরও বেশি ব্যবহৃত হয় এই মৌসুমে। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সময়েই তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশীয় কারখানাগুলোতে ইউরিয়া সার উৎপাদন নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) জানিয়েছে, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য তারা পেট্রোবাংলার কাছ থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না।
বিসিআইসির আওতাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে গ্যাসের চাপ না থাকায় বর্তমানে আশুগঞ্জ সার কারখানাটি বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা ফার্টিলাইজার এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড—এই চারটি কারখানার উৎপাদনও এখন হুমকির মুখে।সম্প্রতি অর্থ, জ্বালানি, শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিসিআইসির একটি চিঠিতে বলা হয়েছে:বছরে ১৮ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কারখানাগুলোর জন্য দৈনিক ১৯৭ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাসের প্রয়োজন।
অথচ প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১৩ টাকার বেশি বাড়িয়েও পেট্রোবাংলা দৈনিক গড়ে মাত্র ১৪০ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ করতে চাইছে।বিসিআইসি বলছে, এই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে ঘোড়াশালসহ সর্বোচ্চ দুটি কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে। বাকিগুলো বন্ধ রাখতে হবে।বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্যাসের সংকট থাকলেও আগামী বোরো মৌসুমে কৃষকদের সারের সংকটে পড়তে হবে না।
তিনি বলেন, “অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কম হলেও আমদানির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা হবে। এছাড়া গ্যাসের দাম বাড়লেও সরকার ভর্তুকি দেওয়ায় কৃষকদের ইউরিয়া সার কিনতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে না।”দেশে প্রতি বছর ইউরিয়া সারের চাহিদা ৩০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। এর মধ্যে শুধু বোরো আবাদের জন্যই প্রয়োজন প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন। বিসিআইসির লক্ষ্য থাকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন দেশেই উৎপাদন করার।
তবে প্রতি বছর নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত গ্যাস রেশনিংয়ের কারণে উৎপাদন নেমে আসে ৮ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টনে। বাকি ঘাটতি সৌদি আরব, কানাডা ও মরক্কোর মতো দেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সুপারিশ করা হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে সার আমদানিই এখন একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন