জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
গণভবনে নবনির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীকে সাথে নিয়ে তিনি এই পরিদর্শন সম্পন্ন করেন।
এ সময় তিনি মন্তব্য করেন যে এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে যা গোটা পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয় তবে এই জাদুঘরেই ভবিষ্যতের পথ খুঁজে পাবে।
পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা জাদুঘরে সংরক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিভিন্ন চিত্র ঘুরে দেখেন।
তিনি বিশেষ জোর দিয়ে বলেন দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে অন্তত একটি দিন কাটানো। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা যেন দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসে যাতে তারা জানতে পারে কী ধরণের নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এই জাতিকে যেতে হয়েছে। জাদুঘরে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ‘আয়নাঘর’ নিয়ে তিনি বলেন এখানে কেউ চাইলে কয়েক ঘণ্টা বা একদিন থাকতে পারে যাতে তারা উপলব্ধি করতে পারে বন্দিরা কী অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মধ্যে ছিল। এই নৃশংসতা যেন আর ফিরে না আসে সেই শিক্ষাই হবে এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান যে অত্যন্ত অল্প সময়ে এই জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে যা একটি রেকর্ড। তিনি জানান আগামী নির্বাচনের আগেই জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গবেষণা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই কাজে যারা বিনা পারিশ্রমিকে আট মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন প্রধান উপদেষ্টা তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সাথে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এছাড়া আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গুম হওয়া পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি এবং ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহও এই পরিদর্শনে অংশ নেন। জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র এবং শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যসহ নানা স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে। পরিশেষে প্রধান উপদেষ্টা ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম ও গণহত্যার ওপর নির্মিত ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন