জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
জুলাই বিপ্লবের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ধারাবাহিক বিবৃতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনার এমন বিবৃতি প্রদান বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না এবং এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক কোনো উদাহরণ নয়।
সম্প্রতি বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
১০ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে দুই দেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও অস্বস্তি বর্তমানে বিরাজ করছে, যা নিরসনে উভয় পক্ষকে সচেষ্ট হতে হবে। বিশেষ করে, নির্বাসিত একজন নেতার স্বাগতিক দেশ থেকে নিজ দেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথা বলা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, "বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশ কখনোই ভারতের অভ্যন্তরীণ সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে কথা বলে না; সুতরাং ভারতেরও উচিত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একই নীতি বজায় রাখা। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের যে কৃত্রিম দূরত্ব তৈরি করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ভারসাম্য বজায় রাখতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই ভারতের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক শীতলতা শুরু হয়। সীমান্ত উত্তেজনা এবং ভারতীয় হাইকমিশন থেকে কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাহার করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই সাক্ষাৎকার দিল্লির জন্য একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন