সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১১:০৩ এএম

বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু

দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবনবন্দর থেকে ১৬২ জন যাত্রী নিয়ে করাচির উদ্দেশে সরাসরি ছেড়ে যাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম একটি ফ্লাইট। বিমানের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামীকাল রাত ৮টায় ঢাকা থেকে করাচিগামী এই প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।

 বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. সাফিকুর রহমান এই মাইলফলক স্পর্শ করার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করার পর টানা তিন ঘণ্টা আকাশে ওড়ার পর করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বিমানের এই উদ্বোধনী ফ্লাইট। 

বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে যে ২০১২ সালে বিভিন্ন কারণে ঢাকা-করাচি রুটে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে এই রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনায় আসে। 

সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশকে তাদের দেশে ফ্লাইট পরিচালনার সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই নতুন অনুমোদন অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলো এখন থেকে অনুমোদিত নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে। 

পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কড়া শর্ত দিয়ে জানিয়েছে যে বিমান বাংলাদেশকে নির্ধারিত আকাশপথ ও রুট কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। করাচি বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের জন্য আলাদা একটি স্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা ফ্লাইট শিডিউল বজায় রাখতে সহায়তা করবে। ঢাকা থেকে প্রতিটি ফ্লাইট ওড়ার আগে করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে যাতে অপারেশনাল সমন্বয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে এই সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে উভয় দেশের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে এবং ব্যবসায়িক ও মানবিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।